মুছাপুর ক্লোজার বিনোদনের নতুন সম্ভাবনা

July 11, 2016 01:07:PM

আবু নাছের কচি:
কিছুদিন ধরেই সবার মুখেমুখে শুনছি, মুছাপুরের ক্লোজার এখন দ্বিতীয় কক্সবাজার। শুনে কিছুটা হাসির উদ্রেক হয়েছিল, মুছাপুরের ক্লোজার আবার কক্সবাজার এর সাথে তুলনা? আস্ত পাগলের প্রলাপ? কিন্তু এই ঈদে আগত বিভিন্ন শহরে থাকা মানুষগুলো এবং বাড়ী আর কাজে কর্মে ব্যস্ত লোকেরা তাদের বিনোদনের জন্য বেঁচে নেয় ঐ মুছাপুরের ক্লোজারকেই। তাদের আনন্দ উৎসব আর বিনোদনের ফ্রেমবন্ধী ছবি ও লোক মুখের রসালো কথা আমাকেও টেনে নিল সেখানে। কিছুদিন আগেও যেখানে শূন্য চরাচর ও গরু, মহিষ,ভেড়া, ছাগলের আস্তানা এবং রাখাল রাজাদের অতিকষ্ট ছিল দৃশ্যমান। সেখানেই আজ দেখলাম হাজারো মানুষের হাসি, আনন্দ আর উৎসব। নোয়াখালী আর ফেনী জেলার মানুষের বাড়ীঘর ও জায়গা জমি রক্ষার্থে এই বাঁধ দেওয়া হয়েছিল এবং একটি রেগুলেটর স্থাপন করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে যে নদী ছিল এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ, এখন সেই নদীই হচ্ছে বিনোদনের অন্যতম স্থান। রেগুলেটর এর উত্তর প্বার্শে যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, সেই বাঁধে পাথরের ব্লক বসানো হয়েছিল। যেটি বাঁধ এলাকার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। নদীর ঢেউ যখন আছঁড়ে পড়ে ঐ ব্লক গুলোর উপর তখন বেরসিক মন ও হয়ে উঠবে রসিক এই কথা বলাই যায়। তাছাড়া অনেক লোকের সমাগম স্থানটিকে মুখরিত করে রাখে সব সময়। আর পাশে তো রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় ফরেষ্ট বাগান। বিশাল সমুদ্রের হিমেল হাওয়া, প্রাকৃতিক ফরেষ্ট, বাঁধ, মাছ ধরার ট্রলার, মানুষের সমাগম, উৎসব, উল্লাস আমার মনে হয় অন্য যেকোনো বিনোদন কেন্দ্রের চাইতে এটি কে আলাদাভাবে সকলের কাছে স্বরণীয় করে রাখবে বহুদিন। কর্মব্যস্ত, ক্লান্ত ও অবসাদ গ্রস্ত মনে কে একটু প্রশান্তি দিতে আপনারা ও ঘুরে আসতে পারেন মুছাপুর রেগুলেটর বা ক্লোজার। মনে হয় না আপনাদের সময় নষ্ট হবে বা বিরক্তি লাগবে। মুছাপুরের ক্লোজার কে যদি ও অনেকেই মিনি কক্সবাজার বলে থাকেন তথাপি এই ব্যাপারে কিছু কথা না বললেই নয়।
এই মনোরম পরিবেশ কে পরিপূর্ণ বিনোদনের জন্য ঘোষণা করার আগে কিছু সমস্যা সমাধান অতিব জরুরী। যেমনঃ
★ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।
★ দর্শনার্থীদের খাবার জন্য ভাল মানের হোটেল বা রেষ্টুরেন্ট এর ব্যবস্থা করা।
★ আগত দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বাথরুম (টয়লেট, প্রস্রাব খানা) ব্যবস্থা করা।
★ নদীতে ঘুরার জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থা করা।
★ রোঁদ হতে বাঁচার জন্যে ছাতার ব্যবস্থা করা।
★ যোগাযোগব্যবস্থা যাতে সব সময় ভাল থাকে সে ব্যবস্থা করা।
★ ইভটিজিং বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া।
★ দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে সেজন্যে নিচে মটরগাড়ি সহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধকরা।
★ শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্কের আদলে কিছু রাইড এর ব্যবস্থা করা।
★ স্থানীয় লোকজনের ববন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করা।
★ বাগান ঘুরে দেখার জন্য পর্যাপ্ত চলাচলের পথ তৈরি করা।
সর্বোপরি যথাযথ কর্তৃপক্ষ (মুছাপুরের চেয়ারম্যান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান) যদি আন্তরিকতার সহিত পদক্ষেপ গ্রহন করেন এবং সেই সাথে মুছাপুরবাসী তথা কোম্পানীগঞ্জ বাসী যদি সহযোগিতা করেন, তাহলে মুছাপুরে ক্লোজারে প্রতি জনগনের যে আগ্রহ সেটি কক্সবাজার সহ যেকোন বিনোদন কেন্দ্র কে হার মানাবে। এবং সেটি মুছাপুরের জনগন সহ কোম্পানীগঞ্জ এর আপামর জনসাধারনের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী। আশাকরি যথাযত কর্তৃপক্ষ সেটি খেয়াল করবেন, এবং আমি বিশ্বাস করি খেয়াল রেখেছেন। সকল কে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ক্লোজার ঘুরে আসার জন্যে আহবান জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি, সবাই ভাল থাকবেন।
আল্লাহ হাফেজ।

লেখক:
সভাপতি
রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।

Related Post