নোয়াখালী সোসাইটির নির্বাচনে মহি উদ্দিন ও আরীফের প্রতি রব-জাহিদ কমিটির সমর্থন

অক্টোবর ১০, ২০১৭ ১১:১০:পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহি উদ্দিন ও আরীফকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির আরেকটি বাড়ী ক্রয় ও ফিনারেল হোম বানাতে চাই। এজন্য ১৫ অক্টোবরের নির্বাচনে কোষাধক্ষ্য পদে মহি উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মুহাম্মদ আরীফ হোসাইনকে নির্বাচিত করার আহবান জানিয়েছেন নোয়াখালী সোসাইটির নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দু। গত শনিবার নিউইয়র্কের ব্রুকলীনের পুল্টনে এক সভায় বর্তমান ও পুননির্বাচিত কমিটির সভাপতি রব মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টুসহ নেতৃবৃন্দু এ আহবান জানান। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোষাধক্ষ্য পদ প্রার্থী মহি উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ প্রার্থী মুহাম্মদ আরীফ হোসাইনকে সমর্থন জানান।

সাংগঠনিক সম্পাদক আরীফের পরিচিতি সভায় বৃহ্ত্তর বেগমগঞ্জ সোসাইটির সভাপতি ছায়েদল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি রব মিয়া। প্রধান আলোচক ছিলেন নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সাধারণ তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিনিয়র সহসভাপতি নাজমুল আহসান মানিক, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টু ও পুলিশ অফিসার আরজু হাজারী প্রমুখ।

নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি রব মিয়া বলেন, ১৭ টি পদের মধ্যে ১৫ টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় এবারে পরিষদ ভিত্তিক কোন নির্বাচন হচ্ছেনা। আমরা কোষাধক্ষ্য প্রার্থী মহি উদ্দিন ও আরীফকে নির্বাচিত করার জন্য কাজ করবো। তিনি বলেন, মহি উদ্দিন আমাদের বর্তমান কোষাধক্ষ্য। তার মতো সৎ, অভিজ্ঞ ও সাবেক ব্যংকার কোষাধক্ষ্য পাওয়া আমাদের জন্য সুভাগ্য। তাকে আবারো নির্বাচিত করতে হবে। তিনি বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আরীফ হোসাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করে সাংবাদিকতা করছেন। আরীফের মতো গণমাধ্যম কর্মী ও তরুন সংগঠককে নির্বাচিত করতে পারলে নোয়াখালী সোসাইটি কখনো দুর্বিত্তদের হাতে পড়বেনা। তাই ১৫ অক্টোবরের নির্বাচনে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের প্রার্থী মহি উদ্দিন ও আরীফকে নির্বাচিত করে আনবো ইনশাল্লাহ।

ভোটারদের উদ্দেশ্য বলেন, পরিষদের নাম দিয়ে পোস্টার ও ব্যনার টাঙ্গিয়ে মালেক খান মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। সে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই পরিষদের ব্যবহার করছে। মালেক খানের কোন দায় দায়িত্ব আমরা নিবোনা।

সিনিয়র সহসভাপতি নাজমুল আহসান মানিক বলেন, কোষাধক্ষ্য হিসেবে মহি উদ্দিন নোয়াখালী সোসাইটিতে যে শ্রম দিয়েছেন, তা অতীতে কোন ব্যক্তি দেয় নাই, ভবিষতেও দিবে কিনা সন্দেহ আছে। আমরা দেখেছি মহি উদ্দিন নির্গুম রাত কাটিয়ে সোসাইটি অফিসে একা একা কাজ করেছেন। তিনি বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আরীফের মতো যোগ্যা প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারলে আমাদের সংগঠনে ভবিষতে আরো যোগ্য প্রার্থী আসবে।

সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টু বলেন, কোষাধক্ষ্য হিসেবে মহি উদ্দিন ভাই নির্বাচিত না হলে উনার ব্যক্তিগত কোন ক্ষতি হবেনা। তবে নোয়াখালী সোসাইটির অনেক বেশী ক্ষতি হবে। আমাদের সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নিতে মহি উদ্দিন ভাইয়ের বিকল্প নেই। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে একজন যোগ্য ব্যক্তিগত হিসেবে আরীফ হোসাইনকে নির্বাচিত করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

নোয়াখালী সোসাইটির ব্যাংক একাউন্টে ২ লাখা ৪৬ হাজার ডলার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আরো একটি বাড়ী ক্রয় ও ফিনারেল হোম বানাতে চাই। এ দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মহি উদ্দিন ও আরীফের প্রয়োজন। তাই ১৫ অক্টোবরের নির্বাচনে আমাদের সমর্থিত দু’প্রার্থীকে জয়ী করুন।

মালেক খানকে সমর্থন না দেয়া প্রসঙ্গে বলেন, তিনি সদস্য থেকে চাঁদা তুলে খালি রশিদ বই জমা দিয়েছেন। মালেক খানের উত্তোলনকৃত চাঁদার সঠিক হিসাব দিতে পারেননি, পরে নিজের পকেট থেকে সোসাইটির ফান্ডে চাঁদার হিসাব মিলানো হয়েছে। এছাড়াও হসপিটালে বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ ও মৃত্ ব্যক্তিকে সদস্য করার চেষ্টা করেছেন, যা সোসাইটির সংবিধানের লংঘন। আমরা মনে করেছি, তারা মতো ব্যক্তির কাছে সোসাইটি নিরাপদ না।

তাজুল ইসলাম বলেন, পরিষদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকার কারনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মালেক খানের বিপরীতে আরীফের প্রার্থীতার বিষয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মালেক খান বর্তমান কমিটিতে থেকেও কমিটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে দেয়া চিঠিতে স্বাক্ষর ছিলন। অথচ রব-জাহিদ কমিটির কারোর বিরুদ্ধে ১ ডলারের দুর্নীতিও অডিট কমিটি পায়নি। এছাড়াও কমিটির বিরুদ্ধে মালেক খান ষড়যন্ত্র মূলক বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছিলেন। এজন্য বিকল্প হিসেবে যোগ্যতার বিবেচনায় আরীফ হোসাইনকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আমরা সমর্থন করেছি।

আরজু হাজারী বলেন, একটি গোষ্ঠি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোতে অপকর্ম করার জন্য ওৎপেতে থাকে। তারা দুয়েক জন করে ডুকে সংগঠনে বিশৃংখল সৃষ্টি করে। নোয়াখালী সোসাইটিতে আমরা কোন দুর্বিত্তকে দেখতে চাইনা। আরীফ আমার সঙ্গে কাজ করেছে, আমি জানি আরীফ সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, সৎ ও ধার্মিক। তাই নির্বাচনে মহি উদ্দিন ও আরীফকে নির্বাচিত করবেন বলে আমি আশা করি।

সভায় আরো বক্তব্য দেন, গোলাম হোসেন, আবুল বাসার, নাজির ভান্ডারী, শাহ নাছের স্বপন, জামাল উদ্দিন, মিরন কিবরিয়া, আইনুল ইসলাম সোহেল, জাহাঙ্গীর আলম, হাসানুজ্জামান বাদল, শামীম মাহমুদ, ইউসুফ মিয়া, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মোশাররফ হোসাইন ও আব্দুর রহিম আজাদ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীর ও শামীম মাহমুদ, হাসানুজ্জামান বাদল। এছাড়াও কোষাধক্ষ্য প্রার্থী মহি উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী নিজেদের পরিচয় ও বক্তব্য তুলে ধরেন। সভার শুরুতে কোরান তেলোয়াত করেন মাওলানা মাহবুব।

উল্লেখ্য, আসন্ন ১৫ অক্টোবর বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির নির্বাচনে ১৭ টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫ টি পদে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকী কোষাধক্ষ্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দুইজন করে প্রার্থী থাকায় শুধু দুই পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

Related Post