কোম্পানীগঞ্জে দর্শনীয় স্থান

মার্চ ১৪, ২০১৭ ১০:০৩:অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর জেলার কোম্পানীগঞ্জ নদী ভাঙ্গন কবলিত বলে পরিচিতি পেলেও এ উপজেলায় বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। বিশেষ করে মুছাপুর ক্লোজার এ অঞ্চলে মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এছাড়াও সরকারী মুজিব কলেজ কোম্পানীগঞ্জের প্রচীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রথম কলেজ হওয়ায় ছুটির দিনগুলো অনেকেই ক্যাম্পাসে ভিড় জমান।

মুছাপুর ক্লোজার: প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি মুছাপুর ক্লোজার। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মুছাপুরের ইউনিয়ন ও ছোট ফেনী নদীর তীরে ক্লোজারের অবস্থান। মুছাপুর ক্লোজার এখন নোয়াখালী অঞ্চলের মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত। এখানে আছে নদীর জোয়ার-ভাটা, ঢেউ, সবুজ প্রকৃতি, পাখির কলতান। সকালে শান্ত প্রকৃতি, জেলেদের উচ্ছ¡াস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে নয়াভিরাম এক সৌন্দর্যের জগৎ। দিনভর গরু মহিষ ভেড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখিদের দলে দলে বিচরণের দৃশ্য। বিকালের হিমেল হাওয়া এবং নানান সব গ্রামীন ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রয়েছে পর্যটকদের জন্য নৌকা ভ্রমনের সুযোগ।
সাগরে যখন জোয়ারের পানি উতলে উঠে তখন অনন্য এক সৌন্দর্য বিকশিত হয় মুছাপুর ক্লোজরের ছোট ফেনী নদীতে। তখন ক্লোজারে দেখা যায় ছোট-বড় ঢেউ। প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩ কিলোমিটার প্রস্থের সমুদ্র সৈকতের যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। এ সময় চারপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বনজ গাছ-গাছালির ফাঁকে ফাঁকে সূর্য লুকোচুরি করে।
কক্সবাজর সীবিচ খ্যাত মুছাপুর ক্লোজারে নোয়াখালী ও পাশ্ববর্তী ফেনী জেলার প্রকৃতি প্রেমি ছাড়াও দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকদের আসতে দেখা যায়। ঈদ বা ছুটির দিনগুলোতে উপছে পড়া ভিড় থাকে। শীতের সকালেই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শণার্থীরা ক্লোজার এলাকায় আসতে থাকে। অত্র এলাকার বিভিন্ন কলেজ ও বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা বনভোজনের জন্য জড়ো হয়। নব দম্পতি ও প্রবাসী পরিবারের আগমনও ছোখে পড়ার মতো।
যেভাবে যাওয়া যায়: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট থেকে বাংলাবাজার। সেখান থেকে চৌধুরীবাজার পার হয়ে ২ কিলোমিটার রাস্তা হয়ে চার রাস্তার মোড় দিয়ে পূর্বদিকে জনতা বাজার। এরপর দক্ষিণে ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে একটু পূর্বে গেলেই মুছাপুর ক্লোজার।

মুছাপুর ফরেষ্ট: ক্লোজার পাশেই রয়েছে মুছাপুর ফরেস্ট। এই বাগানে রয়েছে ঝাউ, কেওড়া, পিটালী, খেজুর, লতাবল, গেওয়া, শনবলই, বাবুলনাটাই, আকাশমনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। এখানে রয়েছে ঘুঘুসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখির অভয়স্থল। শীতের মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির কলাতনে বাড়তি আকর্ষন সৃষ্টি করে। এখানে পরিকল্পিতভাবে বাগানটি শুরু হয় ১৯৬৯ সালে। কোন হিং¯্র পশুর ভয় না থাকলেও বনে রয়েছে শিয়াল, বন বিড়াল, সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু ও পাখি। তবে সাপগুলো নিশাচর। এছাড়া বন্য মহিষ ও গরু দেখা যায়। এই বাগানের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটু ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হবে এ যেন আরেকটি ভূবন। মূলত ক্লোজার ও বাগান পাশাপাশি হওয়ায় এ এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ছোট ফেনী নদী: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন ও সোনাগাজীর চরদরবেশের মাঝামাঝি অবস্থিত ছোট ফেনী নদী। উপজেলার বসুর হাট থেকে মুছাপুর বাংলা বাজার। এর পর বাজার হয়ে সোজা পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে ২ কিলোমিটার পার হলেই ছোট ফেনী নদী। ছোট ফেনী নদীতে বিশেষ করে বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। নদীতে নৌকায় ভ্রমন এবং সূর্যাস্তের দৃর্শ্য উপভোগ করা যায়। মূলত ছোট ফেনী নদী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এবং ফেনীর সোনগাজীকে পৃথক করেছে। এ নদী হয়ে অনেকেই কোম্পানীগঞ্জ ও সোনাগাজীতে যাতায়েত করে।

সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্র: নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহাজাদপুর গ্রামে শাহাজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রটি অবস্থিত। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্য শাহাজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রটি ২০১২ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিক উৎপাদন শুরু করে। এই গ্যাস ক্ষেত্র হতে দৈনিক গড়ে ৫ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস জাতীয় গ্রেডে সংযোজিত হয়। অনেকেই এ গ্যাস ক্ষেত্রটি দেখতে আসেন।

সরকারী মুজিব কলেজ: সরকারি মুজিব কলেজ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ। কোম্পানীগঞ্জের আপামর জনগণের শ্রম, ঘাম ও আর্থিক ত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পূণ্য নামের স্মৃতি বিজড়িত এই কলেজ তিলে তিলে গড়ে উঠা এক সার্থক স্বপ্নের নাম।
স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর উত্তাল দিনগুলোতে, কোম্পানীগঞ্জের তৎকালীন জনপ্রিয় নেতা এবং সংসদ সদস্য আবু নাছের চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায়, বিদ্যোৎসাহী স্থানীয় সমাজসেবক ব্যক্তিবর্গের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় ১৯৭২সালে ‘মুজিব মহাবিদ্যালয়’ নামে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পর ১৯৮৬ সালে ২ ফেব্রæয়ারী তারিখে স্বীকৃতি পায়। প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ সরকারি মুজিব কলেজ।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটি কোম্পানীগঞ্জের বাতিঘর হিসেবে জ্ঞানের প্রদ্বীপ জ্বেলে আলোকিত করছে এই জনপদকে। প্রতিষ্ঠালগ্নে কলেজের অধ্যক্ষের পদ অলংকৃত করেছিলেন আবু নাছের নূর। বর্তমানে অধ্যক্ষ পদ অলংকৃত করেছেন প্রফেসর জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। বর্তমানে কলেজে ১৯জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। উচ্চ মাধ্যমিক এবং ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ে প্রায় ৪,০০০ (চার হাজার) শিক্ষার্থীর কলকাকলিতে মুখরিত এই ক্যাম্পাস।
সমস্যা ও সম্ভাবনা: মুছাপুর ক্লোজার দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেলেও যাতায়াত ও পর্যাপ্ত নিরাপত্ত্বার অভাব রয়েছে। এ কারনে দর্শনার্থীদের দিনে দিনেই ফিরে আসতে হয়। ক্লোজারকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা দিয়ে যাতায়াত ও নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থা উন্নত করলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

Related Post